Hits: 0
গ্ৰেফতার মূল অভিযুক্ত, উদ্ধার নাবালিকা
নিজস্ব প্রতিনিধি , হুগলী : এক অভিযোগকারী ধনিয়াখালি থানায় অভিযোগ জানিয়েছিলেন যে, তাঁর ১৪ বছর বয়সী নাবালিকা কন্যা ২১.০২.২০২৬ তারিখ সকাল প্রায় ১০:৩০ ঘটিকায় বিদ্যালয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। আত্মীয়-স্বজন ও সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। অভিযোগকারীর দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে, কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ অসৎ উদ্দেশ্যে তাঁর নাবালিকা কন্যাকে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে গেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে ধনিয়াখালি থানায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়।তদন্ত ভার পরে এএসআই রনজিত দাসের উপর। নাবালিকার পরিবারের লোক জন ও বান্ধবী দের কাছ থেকে জিজ্ঞাসা বাদ করে জানা যায় একটি মোবাইল নাম্বার। সেই মোবাইল নাম্বার এর সন্ধান করতে জানা যায় মোবাইল ফোন টি সুইচ অফ আছে । এরপর তার পুঙ্খানুপুঙ্খ মূল্যায়ন করে জানা যায় যে মোবাইল টি উজীল মন্ডল নামে এক ব্যক্তি ব্যবহার করছে।

তদন্তে প্রথমে মালদা জেলার কালিয়াচক এলাকা থেকে উজিল মণ্ডল-কে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, উজিল মণ্ডল অর্থের বিনিময়ে নাবালিকাকে হাওড়া স্টেশনে রাজু ওরফে মফিজুল ইসলাম-এর হাতে তুলে দেয়। নাবালিকাকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে উত্তরবঙ্গে নিয়ে যাওয়া হয় বলে তদন্তে উঠে আসে। পরবর্তীকালে নাবালিকা জানতে পারে যে তাকে দেহব্যবসায় বাধ্য করার উদ্দেশ্যে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তদন্তে আরও অভিযোগ উঠে আসে যে, তাকে জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন ও দেহব্যবসায় বাধ্য করা হয়।
ধনিয়াখালি থানার পুলিশ ও স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (SOG) যৌথভাবে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যায়। গ্রেফতার হওয়া উজিল মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোবাইল নম্বরের সন্ধান পাওয়া যায়। সেই নম্বরের কল ডিটেইলস রেকর্ড (CDR) বিশ্লেষণ করে জানা যায়, মূল অভিযুক্ত মফিজুল ইসলাম রায়গঞ্জ এলাকায় অবস্থান করছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী উজিল মণ্ডলকে দিয়ে মফিজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করানো হয় এবং জানানো হয় যে, আরও এক তরুণীকে বিক্রি করার সুযোগ রয়েছে। যদিও মফিজুল ইসলাম নিজে উপস্থিত না হয়ে ইসলামপুরে দুই সহযোগীকে পাঠায়। এরপর ইসলামপুর থানার সহযোগিতায় আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ইসলামপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকা থেকে ফিরোজা খাতুন ও ফজিরুল ইসলাম-কে গ্রেফতার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারী দল নিশ্চিত হয় যে, নিখোঁজ নাবালিকা মফিজুল ইসলামের হেফাজতেই রয়েছে। পরবর্তীতে কৌশলগতভাবে যোগাযোগ করে নাবালিকাকে নিরাপদে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। নাবালিকাকে উদ্ধার করার পর আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে মামলায় POCSO Act এবং Immoral Traffic (Prevention) Act-এর প্রাসঙ্গিক ধারাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় ধারা সংযোজন করা হয়। পরবর্তীতে তদন্তভার এএসআই রনজিত দাসের কাছ থেকে সিআই ধনিয়াখালি শ্রী রামগোপাল পাল-এর নিকট হস্তান্তর করা হয়।
তদন্ত অব্যাহত রেখে বর্তমান সিআই ধনিয়াখালি শ্রী তন্ময় ঘোষ ও স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (SOG)-এর যৌথ অভিযানে সম্প্রতি মূল অভিযুক্ত মফিজুল ইসলাম-কে ধর্মতলা এলাকা থেকে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানের সময় আরও দুই তরুণীকে উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তাদেরও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে উত্তরবঙ্গে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
এই মামলার তদন্ত এখনও অব্যাহত রয়েছে। মানব পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তি বা নেটওয়ার্কের সন্ধানে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

follow us : facebook page, whats app, you tube channel and website
