Hits: 1
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা, ৪ আগস্ট:
শ্রাবণী মেলা উপলক্ষে তারকেশ্বরে পুণ্যার্থীদের ক্রমবর্ধমান ভিড় সামাল দিতে একাধিক বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পূর্ব রেল। যাত্রী নিরাপত্তা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বিঘ্ন রেল পরিষেবা নিশ্চিত করতে হাওড়া ডিভিশনের তারকেশ্বর স্টেশনে পরিদর্শন করেন পূর্ব রেলের বরিষ্ঠ আধিকারিকরা

পূর্ব রেলের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার তারকেশ্বর স্টেশনে প্রায় ১ লক্ষ ৬০ হাজার পুণ্যার্থীর যাতায়াত নথিভুক্ত হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৪.৩০ শতাংশ বেশি। একইভাবে শেওড়াফুলি স্টেশনেও ৮৩ হাজার ৯৬৩ জন যাত্রীর যাতায়াত হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ২৬.৬৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এই বিপুল জনসমাগম সামাল দিতে স্টেশনে মোট ৫,৯২০ জনের ধারণক্ষমতাসম্পন্ন তিনটি অস্থায়ী হোল্ডিং এরিয়া তৈরি করা হয়েছে। সেখানে আলো, পাখা, পানীয় জল এবং মোবাইল চার্জিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি টিকিট পরিষেবা সহজ করতে ১১টি অতিরিক্ত ইউটিএস কাউন্টার, ৭টি মোবাইল ইউটিএস কাউন্টার এবং ১০টি সহায়ক-পরিচালিত এটিভিএম চালু করা হয়েছে।
পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে হাওড়া, শেওড়াফুলি, বর্ধমান ও তারকেশ্বরের মধ্যে ১৪ জোড়া অতিরিক্ত ইএমইউ স্পেশাল ট্রেন চালানো হচ্ছে। শ্রাবণী মেলার প্রথম তিনটি ব্যস্ত সপ্তাহান্তে মোট ২৪৬টি স্পেশাল ট্রেনের ট্রিপ পরিচালিত হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে তারকেশ্বরে একটি ইএমইউ স্ক্র্যাচ রেকও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। স্টেশন চত্বরে ৭০টি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চলছে, যার মধ্যে ২৫টি সৌরশক্তি চালিত। সমস্ত ফুটেজ আরপিএফের বিশেষ ওয়াররুম থেকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রতি রবি ও সোমবার প্রায় ৪১০ জন আরপিএফ কর্মী, জিআরপি, সিভিল ডিফেন্স, হুগলি পুলিশ এবং জেলা প্রশাসনের কর্মীরা যৌথভাবে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া অ্যাম্বুলেন্স, জরুরি চিকিৎসা দল এবং সিপিআর-প্রশিক্ষিত রেলকর্মীদেরও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

পরিদর্শন শেষে পূর্ব রেলের আধিকারিকরা দায়িত্বে থাকা রেলকর্মী, আরপিএফ, সিভিল ডিফেন্সের স্বেচ্ছাসেবকসহ সকল ফ্রন্টলাইন কর্মীর কাজের প্রশংসা করেন। তাঁদের দাবি, উন্নত পরিকল্পনা, অতিরিক্ত ট্রেন, শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং যাত্রীবান্ধব পরিষেবার মাধ্যমে প্রতিটি পুণ্যার্থীর নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাত্রা নিশ্চিত করতে পূর্ব রেল বদ্ধপরিকর।

