Hits: 0
দেনার দায় ও পারিবারিক অশান্তির কথা উঠে আসছে, অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু পুলিশের
নিজস্ব প্রতিনিধি, উত্তরপাড়া: উত্তরপাড়ার হিন্দমোটর এলাকায় বহুতলের ছাদ থেকে পড়ে এক যুবকের মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতের নাম স্বরূপ নন্দ সাহু। তিনি পেশায় র্যাপিডো চালক ছিলেন। গভীর রাতে পাঁচতলার ছাদ থেকে কীভাবে তিনি নীচে পড়লেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে উত্তরপাড়া থানার পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হিন্দমোটরের একটি আবাসনে স্ত্রী কিরণবালা সাহুর সঙ্গে থাকতেন স্বরূপ। গতকাল রাতে স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই আবাসনের পাঁচতলার ছাদে ঘুমিয়েছিলেন। রাত প্রায় ১টা নাগাদ আচমকা নীচে পড়ে যান স্বরূপ। আবাসনের নীচে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে তাঁকে উদ্ধার করে উত্তরপাড়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
২০২৪ সালের ১৯ জুন কিরণবালা সাহুর সঙ্গে স্বরূপের বিয়ে হয়। পরিবার সূত্রে দাবি, বিয়ের সময় বেশ কিছু টাকা ঋণ করেছিলেন স্বরূপ। পরবর্তী সময়ে সেই ঋণ এবং আর্থিক সমস্যা নিয়ে সংসারে অশান্তি চলছিল বলে জানা গিয়েছে। এমনকি স্ত্রীর গহনাও মুথুট ফাইনান্সে বন্ধক রাখা হয়েছিল বলে পরিবার সূত্রে খবর।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ নিয়ে দু’দিন আগেই দু’জনকে থানায় ডেকে বিষয়টি নিজেদের মধ্যে মিটিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল পুলিশ। তার পরেই এই মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে আরও প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর তাপস মুখোপাধ্যায় জানান, পরিবারটি আর্থিক সমস্যায় জর্জরিত ছিল বলে তিনি শুনেছেন। কয়েকদিন আগে তাঁদের ফ্ল্যাটের বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি তাঁর। তাঁর কথায়, আর্থিক সমস্যা থেকে পরিবারে অশান্তি তৈরি হয়েছিল। তবে স্বরূপের মৃত্যু কীভাবে ঘটল, তা পুলিশ তদন্ত করে দেখুক।
প্রতিবেশী অসীম বারিক বলেন, “ছেলেটিকে আমরা চিনি। র্যাপিডো বাইক চালাত। কীভাবে ছাদ থেকে পড়ে গেল, তা জানি না। এই বাড়িতে স্বামী-স্ত্রী এবং তাঁর মা থাকতেন। তাঁর বাবা বাইরে থাকেন। পুলিশ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনুক।”
ঘটনার পর আবাসনের নীচে যেখানে স্বরূপ পড়েছিলেন, সেই জায়গাটি ঘিরে দেয় পুলিশ। মৃতের মা ও স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদও শুরু হয়েছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শ্রীরামপুর ওয়ালস হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এখনও পর্যন্ত থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে উত্তরপাড়া থানার পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের পরই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ছবি পাওয়া যাবে।
